সরবরাহ চাপ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে লেনদেন শুরু হয়েছিল নিম্নমুখিতায়। যদিও পরে রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নতুন বিধিনিষেধের শঙ্কায় দাম বাড়তে থাকে পণ্যটির। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন বাজার আদর্শে পণ্যটির দাম বেড়েছে ২ শতাংশের কাছাকাছি। খবর রয়টার্স।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেলের বাজার উপাদানগুলো এ মুহূর্তে মূল্যহ্রাসের অনুকূলে। কিন্তু মস্কোর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি আলোচনা স্থগিত হয়ে পড়ার ঘোষণায় রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা শক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে আরো তীব্র আকার ধারণ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা এ মুহূর্তে বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলেছে।
বাজারে গতকাল জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম বেড়েছে প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার ৩১ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে এদিন পণ্যটি বিক্রি হয়েছে প্রতি ব্যারেল ৬৭ ডলার ৬৮ সেন্টে।
নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) গতকাল জ্বালানি তেলের মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ব্যারেলে ১ ডলার ১২ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে নিমেক্সে গতকাল প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই কেনাবেচা হয়েছে ৬৩ ডলার ৪৯ সেন্টে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চলমান শান্তি আলোচনায় গতকাল বিরতির ঘোষণা দেয় ক্রেমলিন। এখন পর্যন্ত ইস্তানবুলে বিষয়টি নিয়ে তিন দফা বৈঠকে বসেছেন আলোচকরা। সর্বশেষ আলোচনা হয়েছে গত ২৩ জুলাই। কিন্তু এখনো দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতার সম্ভাবনা দেখা দেয়নি। ফলে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নতুন বিধিনিষেধ আরোপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম জ্বালানি রফতানি টার্মিনালগুলোর একটি অবস্থিত দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী প্রিমোরস্কে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে সেখানে জ্বালানি তেল জাহাজীকরণ কার্যক্রম রাতারাতি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন ইউক্রেনীয় এক কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভার বক্তব্য হলো ‘রুশ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর এ ধরনের হামলা দেশটির পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি পণ্য রফতানিতে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’
বাজারে গতকালই ছিল সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষ দিন। এর আগে বৃহস্পতিবার একদিনে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দরপতন হয়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৭ ও ২ শতাংশ। মস্কোর শান্তি আলোচনা বন্ধের ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত গতকালও নিম্নমুখিতায় শেষ হওয়ার পথেই ছিল পণ্যটির সাপ্তাহিক বাজার। তবে পরিস্থিতি ঘুরে যায় রাশিয়ার ঘোষণা আসার পর।